সুন্দর আর সুস্থ জীবনের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া আর পর্যাপ্ত শরীর চর্চা যেমন প্রয়োজন তেমনি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার এবং শরীর চর্চার ভারসাম্য বজায় রাখাও অতি গুরুত্বপূর্ণ। যেকোন একটি কম বেশি হলেই দেখা দিতে পারে সমস্যা। সুস্থ থাকতে ভালো খাবারের পাশাপাশি শরীর চর্চাতে বিশেষ ‍দৃষ্টি দিতে হবে।

১. ধৈর্য্য ধরে সমায় নিয়ে খাবর গ্রহন করুন।

আপনি কী খাচ্ছেন তাতে মনোনিবেশ না করলে অধিক খেয়ে ফেলবেন। যখন প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছেন বা রেগে আছেন বা প্রচণ্ড আনন্দেও থাকেন তখন খাবার খাওয়া থেকে সতর্ক থাকুন। কেননা এই সময় আপনি অনিয়ন্ত্রিতভাবে খেয়ে ফেলতে পারেন। এছাড়া খাবার খাওয়ার সময় টিভি দেখা বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না। মন দিন খাবারে আর খাওয়াই।

২. প্রতিদিন নির্ধারিত সমায়ে ব্যায়াম অথবা শরীরচর্চা করুন।

নিয়মিত ব্যায়াম শুধু শরীরের জন্যই উপকারী নয়, মনের জন্যও ভালো। নিয়মিত যোগাভ্যাস ও ব্যায়াম ভালো থাকার হরমোনগুলোর প্রবাহ বাড়ায়। সেজন্য নিজের কাজ, মিটিং বা অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য সময় ঠিক করেন, তেমনই ব্যায়ামের জন্যও প্রতিদিন কিছু সময় বের করুন।

৩. ওজন কমানোর জন্য খাবার বাদ দেবেন না।

ওজন কমানোর তাড়াহুড়োয় প্রতিদিনের খাবার এড়িয়ে যাবেন না। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি যেমন শরীরে যাবে না, তেমনই আপনার নানান শারীরিক জটিলতার কারণও হয়ে উঠবে এই খাবার না খাওয়ার অভ্যাস। একবার খাবার না খাওয়া মানেই দ্বিতীয়বার খাবার সময় বেশি খেয়ে ফেলা। তার থেকে বরং নিয়মিত খান। সবজি আর নিয়ন্ত্রিত শর্করার মাত্রা বজায় রাখুন খাদ্য তালিকায়।

৪. অন্য পানীয়ের বদলে বিশুদ্ধ খাবার পানি পান করুন।

কোমলপানীয় পান করতে সবারই ভালো লাগে। তবে চেষ্টা করুন এগুলোর বদলে পানি খেতে। পানির উপকারিতা অসংখ্য। কোনও রকম ক্যালোরির অদলবদল না ঘটিয়ে পানি আপনাকে সতেজ রাখে।

৫. প্রতিদিনের খাবার তালিকা থেকে কিছু খাবার বাদ দিন।

নানান জাঙ্কফুড এবং চকলেটের জন্য লোভ হওয়া স্বাভাবিক। মনে রাখবেন সুস্থ জীবনযাত্রা চালাতে গেলে মাঝেমাঝে কিছু জিনিস বাদ দেওয়া ভালো। কোনও বিশেষ উপলক্ষ্যে মাঝেমধ্যে এসব খেতে পারে, তবে বাদ দেয়াটাই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

৬. খাবারের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করুন।

খাবারের টেবিলে বসে সবকিছুই চেক করে দেখা ভালো ব্যাপার। তবে মনে রাখুন, সব চেখে দেখলেও লোভে পড়ে বেশি খেয়ে নেবেন না। কতটা খাচ্ছেন তার উপরেই কিন্তু শরীরের অনেক বিষয় নির্ভর করে থাকে। তাই এই বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

পুষ্টিবিদ মোঃ শাহারিয়ার করিম জসি
বিএসসি, এম এস
পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *